১২৩

পবিত্র হজ পালন শেষে মঙ্গলবার পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি সুশৃঙ্খলভাবে দেশে ফিরেছেন। এদিকে, চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার (২৪ জুন) হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিন এয়ারলাইন্সের মোট ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে হাজিরা ঢাকায় অবতরণ করেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাবর্তন

ঢাকা হজ অফিস জানিয়েছে, মোট প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি।

এয়ারলাইন্স ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী:

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ৮৯টি ফ্লাইটে ২৮,৮৪৫ জন হাজি এনেছে।
  • সৌদিয়া এয়ারলাইন্স: ৫৯টি ফ্লাইটে এনেছে ২২,৪৫৯ জন হাজি।
  • ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স: ২২টি ফ্লাইটে এনেছে ৮,৬৭২ জন হাজি।
  • অন্যান্য এয়ারলাইন্স: বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪,১৮৭ জন হাজি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি হাজিরা তাঁদের নির্ধারিত টিকিট ও এয়ারলাইন্সের সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেশে ফিরবেন।

৫৪ বাংলাদেশির মৃত্যু, মিনা-মুজদালিফায় কেউ মারা যাননি

হজ বুলেটিনের তথ্যমতে, এবার সৌদি আরবে ইন্তেকাল করা ৫৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী রয়েছেন। এর মধ্যে মক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এবার মিনা বা মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের সবাইকে ওখানেই দাফন করা হয়েছে।

মেডিকেল ও আইটি সেবার পরিসংখ্যান

চলতি হজ মৌসুমে ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এখনও ১০ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এছাড়া হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে তাৎক্ষণিক জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক হারিয়ে যাওয়া হাজিদের খুঁজে বের করাসহ বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে সরাসরি সহায়তা করেছে।