২২৫

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগরসহ বিভিন্ন গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে অনেক রোগীকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

গোপালনগর গ্রামের এক গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু ওরস্যালাইন ও কিছু সাধারণ ট্যাবলেট দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধের সংকট রয়েছে। বিশেষ করে গর্ভনিরোধক সামগ্রী—যেমন ‘সুখী ট্যাবলেট’, কনডম ও ইনজেকশন—না থাকায় নারীরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, গ্রামের অনেক নারী পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতন না হওয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সাদিয়া আক্তার বলেন, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্টের পর থেকে ক্লিনিকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগে যেখানে ২২ ধরনের ওষুধ পাওয়া যেত, বর্তমানে সেখানে সীমিত কয়েকটি—যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, নিউমাইসিন ক্রিম ও ওরস্যালাইন—দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ওষুধের অভাবে প্রতিদিনই অনেক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহজাহান কবীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুত ক্লিনিকগুলোতে বিতরণ করা হবে।

এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, ময়মনসিংহে প্রায় ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনার পর থেকে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে কর্মীদের বেতন ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আরও বড় সংকটে পড়বে।