৩৫

কোটি টাকার যৌতুক দাবি ও স্ত্রীকে মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে এবার আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। শুনানি শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়।

মামলার বিস্তারিত ও ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফেসবুক লাইভে আসেন প্রিন্স মামুন। লাইভে থাকাকালে তিনি বেডরুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে স্ত্রীর ব্যবহৃত শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। সে সময় তিনি লাইভে বলেন, তার মৃত্যুর জন্য তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দায়ী থাকবেন।

ঘটনাটি দেখে প্রিন্স মামুনের স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা দ্রুত ঘরে গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে মোহনার মা, নিকটাত্মীয় এবং মামুনের মা-বাবার সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ভাটারা থানার পুলিশের সহায়তায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরদিন মামুনের স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

আইনি আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের আদেশ

এর আগে, কোটি টাকা যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রী মোহনার দায়ের করা মামলায় গত ২৪ জুলাই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় প্রিন্স মামুনকে।

পরদিন (২৫ জুলাই) ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান তাকে নতুন দায়ের করা আত্মহত্যার চেষ্টা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানোর (শো-অরেস্ট) আবেদন করেন। আদালত বুধবার আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে মামুনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।