৪৮

ঢাকার সাভার উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে গোপনে ঘোড়া জবাই এবং সেটির মাংস রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিশাচর চক্রের গোপন তৎপরতা

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ড্রেন ও ময়লার ভাগাড়সংলগ্ন নির্জন একটি পরিত্যক্ত বাড়িকে আশ্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে এই অপকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছিল। দিনের বেলায় বাড়িটি সম্পূর্ণ জনশূন্য থাকলেও গভীর রাতে সেখানে একাধিক ঘোড়া এনে জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হতো। তবে অতি সম্প্রতি ঘটনাস্থলে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি।

যেভাবে চলত সরবরাহ

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার পর ঘোড়াগুলোকে নির্জন ওই বাড়িতে আনা হতো। সারারাত ধরে জবাই ও প্যাক করার কাজ শেষে ভোরের দিকে মাংস বিভিন্ন গাড়িতে করে নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। রংপুর মার্কেট এলাকার ‘আলফাজ’ নামে এক ব্যক্তি এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

সংগৃহীত এই ঘোড়ার মাংস তুলনামূলক কম দামে কিনে খাসি কিংবা গরুর মাংস হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হতো। সাভারের আশুলিয়া, কাশিমপুর এবং রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিরিয়ানির দোকানে এসব মাংস সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্জ্য অপসারণ ও স্থানীয়দের সন্দেহ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্জ্য সংগ্রাহক জানান, কয়েক দিন পর পরই আলফাজ নামে ওই ব্যক্তি তাকে ফোন দিয়ে পরিত্যক্ত বাড়িটির পাশে যেতে বলতেন। সেখান থেকে রেখে যাওয়া কিছু বস্তা সংগ্রহ করতে হতো, যেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতো। মাঝে মাঝে পচা ও রক্তাক্ত বর্জ্য দেখতে পেলেও বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত জানতেন না বলে জানান।

ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য আছমা বেগম জানান, পরিত্যক্ত বাড়িটির সামনে ও পেছনে দুটি আলাদা প্রবেশপথ থাকায় গোপনে যাতায়াত করা সহজ ছিল। বাড়িটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে নানামুখী সন্দেহ ও আলোচনা চলছিল।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা নিশ্চিত করেছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর ইতোমধ্যে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।