৪১

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কৃতি সন্তান থেকে দুবাই কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি চক্রের অন্যতম মূলহোতা বনে যাওয়া আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (২৯ জুলাই) যশোর জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে তাকে চার সহযোগীসহ আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম ও যশোরের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হঠাৎ অভিযান ও যশোর থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া একাধিক চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও অস্ত্রবাজির ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম সামনে আসে। পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যৌথভাবে এই অভিযান চালানো হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ঝিকরগাছায় চেকপোস্ট বসানো হয়। অভিযানে ডেভিড ইমন ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য তাদের চট্টগ্রাম পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

কে এই ডেভিড ইমন?

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়। শুরুতে সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ‘সাজ্জাদ গ্রুপে’ যোগ দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাতে বিদেশি পিস্তল নিয়ে তোলা তার একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়লে তিনি জনসম্মুখে আলোচনায় আসেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, কিছুদিনের মধ্যেই তিনি এই সন্ত্রাসী চক্রের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। দীর্ঘদিন তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের হোয়াটসঅ্যাপ বা অনলাইন মাধ্যমে কল করে কোটি টাকার চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা না দিলে লোক পাঠিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বসতবাড়িতে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

চকবাজারের সেই আলোচিত কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও হামলা

গত ১১ জুলাই নগরের চকবাজার এলাকার একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর কাছে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ঠিক দুই দিন পর চন্দনপুরা এক্সেস রোডে অবস্থিত ওই অফিসে ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালায়।

হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, প্রিন্টার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতনের জন্য সংরক্ষিত নগদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

সহযোগীদের তথ্যে মূল হোতা জালে

এই ঘটনায় র‍্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গত রোববার রাতে নগরের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ ইমনের প্রধান দুই সহযোগী আসিফ ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায় সন্ত্রাসী ইমনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, যা পরবর্তীতে তার গ্রেপ্তারে সাহায্য করে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজ চক্রের মূল নেটওয়ার্ক, অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং চট্টগ্রামে ঘটানো অন্যান্য অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটন করা হবে।