১১৪

থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লির উদ্দেশে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে মাঝআকাশে তীব্র টার্বুলেন্সের কবলে পড়ে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দুর্ঘটনার পর নেওয়া ডোপ টেস্টে উড়োজাহাজটির ক্যাপ্টেনের শরীরে মাদকজাতীয় পদার্থ বা গাঁজা সেবনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ভারতের সিভিল এভিয়েশন মিনিস্ট্রি ও এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)।

মাঝআকাশে আতঙ্ক ও ২৪ জন আহত

গত ৪ আগস্ট ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে ফ্লাইটটি দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়। মাঝপথে তীব্র ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) মুখে পড়ে বিমানটি আকস্মিকভাবে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বিমানের সিটবেল্ট না পরা যাত্রী ও জিনিসপত্র ওপরের দিকে ছিটকে পড়ে।

এ সময় অন্তত ২০ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।

ডোপ টেস্টে পজিটিভ ধরা পড়লেন ক্যাপ্টেন

দিল্লিতে অবতরণের পর ক্রু সদস্যদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে ক্যাপ্টেনের শরীরে সাইকোঅ্যাকটিভ বা মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হলে সেটির ফলাফলও পজিটিভ আসে। দ্বিতীয় রিপোর্টের তথ্যমতে, তিনি গাঁজা সেবন করেছিলেন।

ঘটনার সময় আরও একটি চাঞ্চল্যকর বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। একাধিক সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়:

  • বিমানটি যখন আকস্মিক ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়, তখন ক্যাপ্টেন তাঁর আসনে ছিলেন না
  • সে সময় ফ্লাইটটি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ফার্স্ট অফিসার।

সরকারি তদন্ত ও পরবর্তী প্রভাব

তীব্র ঝাঁকুনির পেছনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল নাকি পাইলটের মাদক গ্রহণের কোনো ভূমিকা ছিল—সবদিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা এএআইবি।

পাইলটের মাদক গ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত প্রমাণিত হলে এয়ার ইন্ডিয়া ছাড়াও পুরো ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।