৭৩

পঞ্চগড়ে পরকীয়ার জেরে স্বামী আলম হককে (৩০) বিষাক্ত ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড প্রধানপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মৌসুমী আক্তার নিহত আলম হকের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এ দম্পতির সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আলম হককে খাবার দেন তার স্ত্রী মৌসুমী। খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আলম। তার পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে বমি করতে থাকেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

এ সময় মৌসুমী শরবতের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে আলমকে খাওয়ান বলে পরিবারের অভিযোগ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দেবীগঞ্জ এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে পুলিশ খবর পেয়ে তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেন প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর সোমবার পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে আলমের ভাগনে মকছেদুলের কাছে তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য জানান বলে পরিবারের দাবি।

মৌসুমীর দাবি, একই এলাকার বাবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন এবং মোবাইল ফোন, ইমু ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে দেখা করার জন্য চাপ দিতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুলই তাকে ওষুধ দিয়েছিলেন এবং সেটি ঘুমের ওষুধ বলে জানিয়েছিলেন।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, মৌসুমী ও বাবুলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তারা পরিকল্পনা করে আলমকে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে হত্যা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, আলম হকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হলেও পরবর্তীতে সেটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হবে। আটক মৌসুমী আক্তারকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত বাবুল হোসেনকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী বলা যাচ্ছে না।