১৪৭

রাজবাড়ীতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্বামীর করা মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামের এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে ওই নারী জামিনের আবেদন করলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো তানিয়া খাতুন জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি পেশায় একজন সেবিকা (নার্স) এবং রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে কর্মরত। তাঁর স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেন সোহান রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে সাখাওয়াত হোসেন সোহানের সঙ্গে তানিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছু দিন তারা স্বাভাবিকভাবে সংসার করেন। বিয়ের সময় তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল।

তবে অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে আসামি তানিয়া সেই স্বর্ণালংকার বিক্রি করে দেন এবং স্বামীর কাছে পুনরায় ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সাখাওয়াত এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তানিয়া তাঁকে মানসিক নির্যাতন করেন এবং তালাকের হুমকি দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

পরবর্তীতে সাখাওয়াত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের নিয়ে স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু তানিয়া ৫ লাখ টাকা ছাড়া কোনোভাবেই সংসারে ফিরতে রাজি হননি। পারিবারিকভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক করা হলেও বিষয়টি মীমাংসা হয়নি।

আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশ

স্ত্রী যৌতুকের দাবিতে অটল থাকায় বাধ্য হয়ে গত ২২ জানুয়ারি স্বামী সাখাওয়াত হোসেন সোহান বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় তানিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মঙ্গলবার আসামি তানিয়া খাতুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।