৯৩

দেশজুড়ে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং বিদ্যুৎ অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট দিয়ে উল্টো বিপাকে পড়েছেন সুমন হোসেন নামের এক তরুণ বিদ্যুৎ কর্মী। তিনি মাদারীপুরের মিঠাপুকুর স্টেশনে ‘লাইনম্যান গ্রেড-২’ পদে কর্মরত রয়েছেন।

তিনি পরিচালিত ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করে আসছিলেন।

সচেতনতার উদ্দেশ্যে পোস্ট, কিন্তু বিভ্রান্তির শিকার

সুমন হোসেনের দাবি, লোডশেডিংয়ের জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকদের হামলা ও ভাঙচুর ঠেকাতেই তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিদ্যুৎ অফিস কীভাবে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করে—তা সাধারণ গ্রাহকদের সহজভাবে বোঝানোই ছিল তার প্রধান উদ্দেশ্য।

তবে সম্প্রতি তার প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়। এর পর থেকেই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েন এবং চাকরি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

ঘটনার পর সুমন হোসেনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি ভাবতে পারিনি আমার করা ছোট একটি ভিডিও আমার, আমার পরিবার, আমার কর্মস্থল ও পুরো দেশের ওপর এত বাজে প্রভাব ফেলবে।”

তিনি আরও লেখেন, “অফিসের কথা ভেবে এবং হামলা থেকে বিদ্যুৎ অফিসকে বাঁচাতে গিয়ে আমি অজান্তেই বড় বিপদ ডেকে এনেছি। এতে আমার বেঁচে ফেরার পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।”

ভবিষ্যতে কোনো পোস্ট না দেওয়ার ঘোষণা

পোস্টের শেষাংশে সুমন নিজের ভুলের জন্য দেশের মানুষ ও বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে অঙ্গীকার করেছেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি আর কোনো ভিডিও বা পোস্ট প্রকাশ করবেন না। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এই লাইনম্যান।