১০৭

মহাজাগতিক এক রোমাঞ্চকর ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। আজ বুধবার একই সরলরেখায় অবস্থান নিতে যাচ্ছে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী, যার ফলে ঘটবে এক বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ১৯৯৯ সালের পর দীর্ঘ ২৭ বছর পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে এমন সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হতে চলায় এটি ইউরোপবাসীর জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিশ্বে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল।

মহাকাশ গবেষকদের মতে, সূর্য ও চাঁদের আপেক্ষিক আকার পৃথিবী থেকে প্রায় সমান দেখায় চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের আলো পুরোপুরি ঢেকে যায় এবং এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সৃষ্টি হয়।

সময়সূচি ও স্থায়িত্ব

বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে এই সূর্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূর্য পুরোপুরি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি টানা ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। গ্রহণ চলাকালে নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক এলাকায় দিনের বেলাতেই সাময়িকভাবে রাতের অন্ধকার নেমে আসবে।

যেসব এলাকা থেকে দেখা যাবে

ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মানুষেরা এই সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন। প্রধানত যেসব অঞ্চল থেকে এই দৃশ্য দেখা যাবে:

  • স্পেন ও পর্তুগাল
  • আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড
  • রাশিয়া ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ

দর্শনার্থীদের আবহাওয়া উদ্বেগ

বিরল এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতোমধ্যে হাজারও দর্শনার্থী ও বিজ্ঞানী এসব দেশে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। তবে মেঘলা আকাশ বা বৃষ্টির আশঙ্কা দর্শনার্থীদের মনে কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, কারণ আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে দৃশ্যটি উপভোগ করা ব্যাহত হতে পারে।

উল্লেখ্য: মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতিবছর দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও পূর্ণগ্রাস গ্রহণ অত্যন্ত বিরল। গড়ে প্রতি দেড় বছর পরপর বা প্রতি ১০০ বছরে মাত্র ৬৬ বার এই ধরনের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে থাকে।