১৬৬

ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে অতিথিবাহী একটি খোলা পিকআপ ভ্যান দুটি ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে দেশটির ইন্দ্রামায়ু রিজেন্সির কিয়াজারান কুলোন গ্রামের কাছে উত্তর উপকূলীয় মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

যেভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা

স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের প্রধান উন্দাং শরিফ হিদায়াত জানান, হতাহতরা সবাই পার্শ্ববর্তী পারেয়ান গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আনন্দঘন পরিবেশে খোলা পিকআপে করে বাড়ি ফিরছিলেন। মহাসড়কের মাঝখানের একটি ইউ-টার্ন (U-Turn) দিয়ে গাড়িটি ঘোরার জন্য যখন কিছুটা ধীরগতিতে চলছিল, ঠিক তখনই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী উইং-বক্স ট্রাক পিকআপটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

তীব্র ধাক্কার ফলে পিকআপটি ছিটকে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বিপরীতমুখী লেনে চলে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি বড় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সরাসরি সংঘর্ষ হয়। দুই ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং একাধিক যাত্রী সড়কে ছিটকে পড়েন। ফলে ঘটনাস্থলেই ১৩ জনের নির্মম মৃত্যু হয়।

আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক

পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন আহত পাঁচজনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানা গেছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা কবলিত যানগুলো জব্দ করে এর কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সড়ক নিরাপত্তার ঘাটতি

ইন্দোনেশিয়ায় উন্মুক্ত পিকআপ বা মালবাহী যানে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নিরাপত্তার ঘাটতি, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং অতিরিক্ত গতি ও অসচেতনতার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে প্রায়শই এমন প্রাণঘাতী ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।