৩

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমণির ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আদালতে হাজিরা দিতে এসে ১০ থেকে ১৩ জন দেহরক্ষী নিয়ে প্রবেশ করেন এই অভিনেত্রী। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে দেহরক্ষীদের অসদাচরণ ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক সাংবাদিকের হাত আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সকালে আদালতে আসার সময় পরীমণির সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা তাঁকে ঘিরে রাখেন। আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর তাঁদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাধারণ মানুষ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আসা গণমাধ্যমকর্মীদের চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি এজলাস কক্ষের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা নিয়েও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনার একপর্যায়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় এক সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমণির কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী। তবে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য সাংবাদিকদের দাবি, ভিড়ের মধ্যে তাঁরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন, কেউ পরীমণির গায়ে হাত দেননি। তাঁদের অভিযোগ, একপর্যায়ে পরীমণি ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এরপর পরীমণির সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। এতে এক সাংবাদিকের হাতে আঘাত লাগে। ধস্তাধস্তির সময় পরীমণির এক দেহরক্ষীর গেঞ্জিও ছিঁড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান তাঁরা। আদালত এলাকায় উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

পরে আদালত প্রাঙ্গণে থাকা পুলিশ ও অন্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এ ঘটনায় পরীমণি বা তাঁর দেহরক্ষীদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।