৩২

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য ও সমর্থিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদে নতুন করে বামপন্থী ধারার একাধিক প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় কংগ্রেসে সংগঠনটির প্রভাব বাড়তে যাচ্ছে। আগে থেকেই কংগ্রেসে থাকা ডিএসএর দুই সদস্য রাশিদা তালিব ও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজও নিজেদের আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে ডিএসএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নতুন করে প্রতিনিধি পরিষদে আসছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নিউইয়র্কের ক্লেয়ার ভালদেজ ও দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার, মিশিগানের ডোনাভান ম্যাককিনি, কলোরাডোর মেলাট কিরোস, পেনসিলভানিয়ার ক্রিস র‍্যাব এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাঞ্জেলা গঞ্জালেস-তোরেস। সংগঠনের সদস্য, আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থিত প্রার্থী এবং ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে ধরলে সংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরাও নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। মামদানি প্রাইমারি নির্বাচনে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার, ক্লেয়ার ভালদেজ ও দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ারকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তাঁরা তিনজনই প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ফলে নিউইয়র্কে মামদানির রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের জন্য ফলাফলটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউইয়র্কে ভালদেজ ও শেভালিয়ারের জয়

নিউইয়র্কের সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ক্লেয়ার ভালদেজ। অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি নিদিয়া ভেলাজকুয়েজের আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মেলভিন রিভেরাকে হারিয়েছেন তিনি। প্রাইমারি নির্বাচনে ব্রুকলিন বরোর প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও রেনোসোকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন ভালদেজ। তাঁর পক্ষে ছিলেন মেয়র জোহরান মামদানি, ডিএসএ এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

ভালদেজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই বিলুপ্ত করা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গ্রিন নিউ ডিলের মতো উদ্যোগ, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

নিউইয়র্কের ১৩তম আসনে জয় পেয়েছেন দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার। প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আদ্রিয়ানো এস্পাইলাতকে হারিয়ে চমক তৈরি করেছিলেন। চূড়ান্ত নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জোমো এম উইলিয়ামসকে পরাজিত করেন তিনি।

শেভালিয়ার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতাও তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল।

নিউইয়র্কের ১০ম আসনে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারও জয় পেয়েছেন। মামদানির সমর্থন পাওয়া এই প্রার্থী প্রাইমারিতে বর্তমান প্রতিনিধি ড্যান গোল্ডম্যানকে হারিয়েছিলেন।

মিশিগান ও কলোরাডোতে নতুন মুখ

মিশিগানের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাভান ম্যাককিনি। দলীয় প্রাইমারিতে ব্যয়ের দিক থেকে পিছিয়ে থেকেও তিনি বর্তমান প্রতিনিধি শ্রী থানেদারকে পরাজিত করেছিলেন। সাধারণ নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী টি পি নিকোরিয়াককে হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

একই অঙ্গরাজ্যের ১২তম আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী রাশিদা তালিব। নির্বাচনে রিপাবলিকান জেমস হুপারকে পরাজিত করে আরও একটি মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন তিনি।

কলোরাডোর প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন মেলাট কিরোস। রিপাবলিকান প্রার্থী ক্রিস্টি পিটারসনকে হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। দলীয় প্রাইমারিতে দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি ডায়ানা ডিগেটকে পরাজিত করে আলোচনায় এসেছিলেন কিরোস।

পেনসিলভানিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ায় জয়

পেনসিলভানিয়ার তৃতীয় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক রাজ্য আইনপ্রণেতা ক্রিস র‍্যাব। ডেমোক্র্যাটদের শক্ত অবস্থানের এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেনিস মাহোনিকে পরাজিত করেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ৩৪তম আসনে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জিমি গোমেজকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন অ্যাঞ্জেলা গঞ্জালেস-তোরেস। এই আসনে লড়াইটি ছিল তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ভোট গণনার একপর্যায়ে গঞ্জালেস-তোরেস এগিয়ে ছিলেন।

সিনেট নির্বাচনে হার অ্যাঞ্জি নিক্সনের

ডিএসএ-সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাফল্যের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল ফ্লোরিডার সিনেট নির্বাচন। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সন রিপাবলিকান অ্যাশলে মুডির কাছে পরাজিত হয়েছেন। তবে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল কম। নিক্সন পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ ভোট, আর মুডি পেয়েছেন ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ।

ফ্লোরিডা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থানের অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। সে কারণে নিক্সনের কাছাকাছি ফল ডেমোক্র্যাটদের আলোচনায় এসেছে। তবে সিনেটের আসনটি শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানদের দখলেই থাকছে।

নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসে ডিএসএ-সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে নীতিগত মতপার্থক্যও সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, অভিবাসন ও গাজা ইস্যুতে তাঁদের অবস্থান আগামী দিনে দলের নীতি নির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।