৩৭

হামলাকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ আখ্যা দিয়ে যৌথ বিবৃতি দিল ‘আর৪’ (R4) জোট; সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা।

আঙ্কারা / রিয়াদ: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার চার আঞ্চলিক শক্তি—তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর ও সৌদি আরব। ঘটনাটিকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ আখ্যা দিয়ে এই হামলাকে কোনো অজুহাতেই মেনে নেওয়া যায় না বলে যৌথ হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশগুলো।

আজ সোমবার (১২ই অক্টোবর ২০২৬) চার দেশের সমন্বয়ে গঠিত আঞ্চলিক পরাশক্তি জোট ‘আর৪’ (R4)-এর পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে হুথি বিদ্রোহীদের অবিলম্বে ও বিনাশর্তে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১০ই অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হন। এর পরদিনই, অর্থাৎ রবিবার বিমানবন্দরে ফের নতুন করে চালানো হামলায় আরও ১ জন নিহত এবং প্রায় এক ডজন মানুষ আহত হন। জোড়া এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

বিবৃতিতে ‘আর৪’ জোটের দেশগুলো সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার স্বার্থে দেশটির সরকারের গৃহীত যেকোনো ‘বাধ্যতামূলক ও আইনি পদক্ষেপের’ প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন ব্যক্ত করেছে। হুথিদের এই আক্রমণাত্মক আচরণের ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকেই বহন করতে হবে বলে যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ তুরস্ক সম্প্রতি গত আগস্ট মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে এক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। চুক্তি অনুযায়ী ইতিমধ্যে সৌদি আরবে কারিগরি ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা পাঠাতে শুরু করেছে আঙ্কারা এবং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক।