১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে সুরতহাল প্রতিবেদনে। তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান তাহসিফের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত ব্যক্তির উচ্চতা আনুমানিক পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। মাথায় কালো চুল এবং মুখে ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। উদ্ধারের সময় তাঁর চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। দুই হাত মাথার সামনে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পেটও ফোলা ছিল।

সুরতহাল প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর বুক, পিঠ, পেট, দুই পা ও যৌনাঙ্গে অস্বাভাবিকতার উল্লেখ নেই। শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাঁর পরনে ছিল কালো ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার।

নৌ-পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহসিফের হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

২৮ বছর বয়সী তাহসিফ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। তাঁর বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ওঠার যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ওই ভিডিওর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।