৬

ঢাকাকে জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, বায়ুদূষণ কমানো এবং পরিবেশের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে সাধারণত ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায় না। অন্যদিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে থাকার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।

তিনি বলেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় আবর্জনার কারণে মানুষের চলাচলে যেন ভোগান্তি না হয় এবং দূষিত বাতাসে মানুষ যেন অসুস্থ না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি টোকিওর মতো করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি, তাহলে সেটি হবে বড় একটি সংস্কার।’

সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সংস্কারের লক্ষ্য

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ যেন এসব উদ্যোগের সুফল পান, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যাতে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়।

তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি এমন সংস্কারকে গুরুত্ব দেন, যার সুফল দেশের প্রান্তিক মানুষও ভোগ করতে পারেন। সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রমনা মানুষের সমর্থন পেলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার যাতে জনকল্যাণমূলক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে না পারে, সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সাধারণ মানুষ এবং প্রবাসীদের পরিবারও উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন না। বরং সরকারের নেওয়া কাজগুলো সঠিক মনে হলে সেগুলো বাস্তবায়নে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানদের জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।