১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার মিত্ররা। তবে আসন কমে যাওয়ায় এবং একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা না থাকায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। বর্তমানে পার্লামেন্টে জোটটির আসনসংখ্যা ৬০। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৪৮টিতে। বর্তমানে বিরোধীদের হাতে রয়েছে ৫০টি আসন।

এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যাচ্ছে। ভোটের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা তাদের বর্তমান আসনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আপাতত ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু

নতুন সরকার গঠন করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লাগতে পারে। এ সময় পর্যন্ত নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালিত হবে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা যাঁর বেশি, তাঁকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

ইসরায়েলে কোনো একক দল সাধারণত একাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না। তাই সরকার গঠনে বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট ও সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে কোনো জোটই সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি।

সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা

আরব দলগুলোর সমর্থন বিরোধী নেতা আইজেনকটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সরকার গঠনের প্রয়োজনে সেই অবস্থান থেকে সরে আসবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো, নেতানিয়াহুর জোট বিরোধী দলগুলোর কাউকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলোর অবস্থান কঠোর হওয়ায় এমন সমঝোতা সহজ হবে না।

এ ছাড়া আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সুযোগও রয়েছে আইজেনকটের। সে ক্ষেত্রে তাঁর জোটের আসনসংখ্যা ৬১-এর কম হলেও গুরুত্বপূর্ণ আইন ও সিদ্ধান্তে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনা করতে পারে।

চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষা

ইসরায়েলে ভোট গণনা হাতে করা হয় এবং নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ফল যাচাই করা হয়। সেনাসদস্য ও দেশের বাইরে ভোট দেওয়া কূটনীতিকদের ব্যালটসহ বিপুলসংখ্যক ভোট গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফল প্রকাশে সময় লাগতে পারে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ভোট গণনা শেষ হওয়ার কথা। তবে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের জন্য ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

চূড়ান্ত ফলের পর সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া প্রার্থীকে ৪২ দিনের মধ্যে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে হবে। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট আরও দুজনকে সুযোগ দিতে পারবেন। তিনটি প্রচেষ্টার পরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

এদিকে, আরব দলগুলোর ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর দল। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ফল এবং দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ।