২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটের বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন আরব নেতা ইউসুফ জাবারিন। তবে সরাসরি কোনো জোট সরকারে অংশ নিতে চান না তিনি। গাজায় যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের নীতির কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারে যোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর প্রধান জাবারিন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ইসরায়েলি জোট সরকারের অংশ হওয়ার সুযোগ তাঁদের নেই। তবে নেতানিয়াহু সরকারের পতন ঘটাতে বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়া সম্ভব।

তাঁর এই প্রস্তাবের ফলে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ আরব দলগুলো

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে ভোট গণনার ৮৫ শতাংশের বেশি শেষ হওয়ার পরও কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আরব দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা’আম’ সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন নতুন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহুর সরকারের বিকল্প হিসেবে কার্যকর সরকার গঠন করতে হলে বিরোধীদের আরব রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েলে বর্ণবাদ, বর্জন ও শ্রেষ্ঠত্ববাদের রাজনীতি চলবে, নাকি ইহুদি ও আরবদের মধ্যে বাস্তব অংশীদারত্ব গড়ে উঠবে—এখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়।

আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ নেতানিয়াহুর

ভোট গণনার মধ্যেই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন ‘চুরি’ করার অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, কিছু আরব দল ঘুষ, হুমকি, জালিয়াতি ও নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহার করে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে নগদ অর্থ ও অন্যান্য অনিয়মের প্রমাণ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে লিকুদ পার্টি।

ভোটের দিন রাতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ২৪ হাজার ইসরায়েলি শেকেল এবং ‘রা’আম’ দলের ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দিন লিভনে ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই বাড়ির কাছ থেকে আটক করা হয়েছিল। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

রা’আম দলের প্রধান মনসুর আব্বাস নেতানিয়াহুর অভিযোগকে মিথ্যা ও উসকানিমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের দল অভিযোগ করেছে, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই নেতানিয়াহু ফলাফলকে বিতর্কিত করার ক্ষেত্র তৈরি করছেন।

বিরোধী শিবিরেও মতভেদ

নির্বাচনী প্রচারে আইজেনকোট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে অনাগ্রহী ছিলেন। তবে বিরোধী জোটের শরিক ও বামপন্থী নেতা ইয়াইর গোলান আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

গোলান বলেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরে গেছেন এবং ইহুদি ও আরব ভোটারদের মধ্যে তাঁর তৈরি করা বিভাজন আর মেনে নেওয়া যায় না।

তবে আইজেনকোটের জোটের কয়েকজন কট্টর ডানপন্থী নেতা আরব আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। আরব দলগুলোর সমর্থন বিরোধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করলেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও জোটের অভ্যন্তরীণ আপত্তি শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে।