৫০

বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থে কেনা জমি ও পারিবারিক অর্থের আইনি বিরোধ দ্রুত মেটাতে এই উদ্যোগ; ভুয়া নথিপত্র প্রদানকারী অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি।

ঢাকা: প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্টার্জিত অর্থ, কেনা সম্পত্তি রক্ষা এবং দেশে পাঠানো অর্থ উদ্ধার সংক্রান্ত আইনি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভাগীয় সদর দপ্তরগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার (১৩ই অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট’ (রামরু)-এর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, “অনেক সময় প্রবাসীরা কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে দেশে যে জমি বা সম্পত্তি কেনেন, তা নিয়ে বছরের পর বছর আইনি জটিলতা ও হয়রানির শিকার হন। এই হয়রানি কমাতে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে শুধু প্রবাসীদের জন্য এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে খসড়া তৈরির পর্যায়ে রয়েছে।”

সাম্প্রতিক দুবাই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকেরা অত্যন্ত কঠিন ও মানবেতর জীবনযাপন করেন। এত পরিশ্রম করা সত্ত্বেও অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় তারা কম মজুরি পান। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রবাসীদের বর্তমান সংকট ও প্রতারণা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অসৎ রিক্রুটিং এজেন্সির ভুয়া কাগজপত্র ও জাল সনদের কারণে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং আরও অনেক ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া নথিপত্র সহজেই ধরা পড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর জন্য প্রতারক এজেন্সিগুলোকেই দায়ী করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রামরুর ৩০ বছরের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কাজের প্রশংসা করে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সংগঠনটি ভবিষ্যতে অভিবাসী কর্মীদের অধিকারে আরও বড় ভূমিকা রাখবে এবং এমন এক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে যেখানে বিদেশ থেকে মানুষ কাজ করতে আসবে।