২৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিগত দিনের দুর্নীতির মামলা, গুলশানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ ঘোষিত বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস খতিয়ে দেখার জোর দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর।

জাতীয় ডেস্ক

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, মোট সম্পদের পরিমাণ এবং সেই সম্পদের প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, ২০০৭ সালে ১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক, যাতে ২০০৮ সালে বিশেষ আদালত তাঁকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অন্য এক দুর্নীতি মামলায় তাঁর ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল এবং চকরিয়ায় মাছের ঘের দখলের মামলাও ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি এসব মামলা থেকে খালাস পেয়ে সেটিকে ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করেছিলেন।

এনসিপি নেতা হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, “বিএনপির সময়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। রাষ্ট্র যে কারও ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেই কেন ব্যাংক হিসাব তলব হবে? রাষ্ট্রীয় কল্যাণে ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে অবশ্যই প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও তলব করা উচিত।”

তিনি সালাহউদ্দিন আহমদের কর্মজীবন ও সম্পদের হিসাব তুলে ধরে বলেন, ১৯৮৫ ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯৬ সালে চাকরি ছাড়ার সময় তিনি মাসে মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতন পেতেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি বিরোধী দলে থাকাকালে কিংবা কারাবাসকালীন সময়ে তিনি কী ব্যবসা করেছিলেন যে আজ থেকে ২০ বছর আগেই গুলশানের বিলাসবহুল ‘প্ল্যাটিনাম রেসিডেন্স’-এ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও সম্পদের মালিক হলেন?

এছাড়া ২০০৮ সালের হলফনামায় সালাহউদ্দিন-হাসিনা দম্পতির মোট সম্পদ ৬.৩ কোটি টাকা দেখানো হলেও ২০১৮ সালে তা ১২.৭ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকায় কীভাবে উন্নীত হলো—তার ব্যাখ্যা চান হাসনাত। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সন্তানদের বিদেশে পড়ার বিপুল খরচের অর্থের উৎস বৈধ কি না, তা জনস্বার্থে খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পোস্টের শেষাংশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রী ও তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক এবং আমাকে দিয়েই তা শুরু হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরে সম্পদের হিসাব প্রকাশ করেছিলেন, দেখি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সেই সৎ সাহস দেখাতে পারে কি না!”