৪৩

ইনজেকশন ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাইক; তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বছরের সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেন টেনেসির গভর্নর, কারা প্রধানের পদত্যাগ।

ওয়াশিংটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরল ও ত্রুটিপূর্ণ এক ঘটনার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন ১৯৯৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইক (৫০)। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ জাতীয় রাসায়নিক ইনজেকশন দেওয়ার পর কোনো বন্দির বেঁচে যাওয়ার ঘটনাকে “চিকিৎসা বিজ্ঞানে নজিরবিহীন” বলে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর টেনেসিতে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। তবে ইনজেকশন দেওয়ার দীর্ঘ সময় পরও তাঁর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়নি। মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভেন্টিলেটরে রাখার পর আশ্চর্যজনকভাবে তিনি সম্প্রতি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে শুরু করেছেন বলে তাঁর আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।

পাইকের আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে জানান, ইনজেকশন দেওয়ার আগে কারা চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে অন্তত সাতটি সূঁচ দিয়ে আইভি (IV) লাইন চালুর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর ‘থ্রম্বোসাইটোসিস’ (রক্ত জমাট বাঁধা) সংক্রান্ত শারীরিক জটিলতা ও ছোট শিরার কারণে সঠিক উপায়ে ওষুধ প্রবেশ করেনি। ফলস্বরূপ, পেন্টোবার্বিটালের দুটি বিষাক্ত ডোজ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে ত্বকের নিচের কলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তা শতভাগ প্রাণঘাতী হতে ব্যর্থ হয়।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে টেনেসির গভর্নর বিল লি তাৎক্ষণিকভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। একই সাথে তিনি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য টেনেসিতে কার্যকর হতে যাওয়া সকল মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ঘোষণা করেছেন। এছাড়া ব্যর্থ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দায় নিয়ে টেনেসির কারা বিভাগের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগ করেছেন।

বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডক্টর জোয়েল জিভোটের মতে, “বিষাক্ত পেন্টোবার্বিটাল শরীরে প্রবেশের পরও বন্দির বেঁচে থাকা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।” পাইকের আইনজীবীরা এখন তাঁর শারীরিক ক্ষতির বিষয় তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমানোর আবেদন জানাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী তরুণী কলিন স্লেমারকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ডাদেশ পান ক্রিস্টা পাইক।