১০

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইরান যুদ্ধ শেষ হবে ‘যখন আমি চাইব’। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে যথাযথভাবে, আর ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টেক্সাসের লাবকে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ট্রাম্প। যুদ্ধ কবে শেষ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন আমি এটি শেষ করতে চাইব, তখনই শেষ হবে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের সমাপ্তি দ্রুত হতে পারে। তবে এর জন্য এমন একটি চূড়ান্ত ঘোষণা প্রয়োজন, যাতে নিশ্চিত করা হবে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।

এদিকে, ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-এর এক প্রতিবেদনের তথ্য। ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দেওয়া হিসাবের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের হিসাবের তুলনায় যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

যুদ্ধের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর ওপরও আর্থিক চাপ বাড়ছে। মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির ১২ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের গড় অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ডলার। এর মধ্যে জ্বালানির বাড়তি খরচ ১ হাজার ১০০ ডলার, সুদের ব্যয় বৃদ্ধি ৫৪০ ডলার এবং সামরিক ব্যয়ের কারণে অতিরিক্ত চাপ ৩৬০ ডলার।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ৩২ শতাংশে নেমে আসার তথ্য উঠে আসে।

ইরান সংঘাতের অবসানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিতও এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যাবেন, নাকি সামরিক অভিযান আরও জোরদার করবেন—সে বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরব থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক হামলা চালানোর নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

যুদ্ধের ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর মেরামত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নেই। ২৯ জুন পর্যন্ত চারটি দেশে—ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে—ইরানের হামলায় মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি আনুমানিক ১৮৪ মিলিয়ন ডলার বলে কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক পরিদর্শক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের মজুতেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কার্যত সীমাহীন পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে।

যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয়, জ্বালানির বাজার এবং সামরিক সরঞ্জামের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ইরান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।