১০৯

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্স এবং আসামির আপিলের ওপর হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

নিম্ন আদালতের রায়

মামলার বিচার শেষে ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে মামলার অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর আইন অনুযায়ী মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে ওই নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আছিয়া হত্যা মামলাটিও অগ্রাধিকার তালিকায় আসে।

এর আগে ২০২৬ সালের ১৪ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল আছিয়া ও পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য আবেদন করেছিলেন। তখন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো মুলতবি চাইবে না বলেও জানানো হয়।

এখন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে আসামির করা আপিলও বিবেচনায় নেওয়া হবে। শুনানি শেষে আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল, পরিবর্তন বা আইন অনুযায়ী অন্য কোনো আদেশ দিতে পারেন।

আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শুরু হওয়ায় বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার ওপরই পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।