১২৩

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রেম করে বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় মুসলিমা আক্তার মুন্নি (১৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার কলারণ গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে পিটিয়ে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

নিহত মুসলিমা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমগ্রামের মো. মুরাদ শেখের মেয়ে। সাত মাস আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলারণ গ্রামের নুর ইসলাম শেখের ছেলে টাইলস মিস্ত্রি সজল শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের দাবি ও স্থানীয়দের বক্তব্য

মুসলিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। কলহের জেরে তাকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। নিহত গৃহবধূর বাবা মুরাদ শেখ বলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে জামাই। মেয়ের নাক-মুখে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মুসলিমা ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন। টের পেয়ে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শিঞ্জন সাহা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডা. শিঞ্জন সাহা জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছিল।

হাসপাতাল থেকে স্বামী ও স্বজনদের সটকে পড়া

মুসলিমার পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক মৃত্যু নিশ্চিত করার পরপরই মুসলিমার স্বামী সজল ও তার পরিবারের সদস্যরা লাশ হাসপাতালেই ফেলে রেখে কৌশলে সটকে পড়েন।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার বিষয়ে বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।