১১৩

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণের দুই বছর পরও চালু হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রশাসনিক অনুমতির জটিলতার কারণে চিকিৎসাসেবা শুরু করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে স্থানীয়দের দান করা ৪৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয় দমদমা ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। নির্মাণ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রুপালী এন্টারপ্রাইজ ২০২৪ সালে হাসপাতালটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

হাসপাতালে রোগীর বেড, জেনারেটর, এসি, ফ্যান, চেয়ার-টেবিলসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। তবে ভবন প্রস্তুত থাকলেও এখনো চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতালটি চালু হলে শ্রীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও নবজাতকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে স্থানীয়দের দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার বলেন, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্থানীয় কয়েকজন ৪৩ শতাংশ জমি দান করেছেন। আধুনিক ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের গাজীপুর জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। সবকিছু প্রস্তুত থাকার পরও শুধু অনুমতির জটিলতায় হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোতাহার হোসেন পালোয়ান বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে দমদমা, নলগাঁও, চিনাশুকানিয়া, দরপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হতেন। দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানান তিনি।

এদিকে হাসপাতালের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সহকারী নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট জোবাইদা আক্তার রিমা জানান, তিনি ডেপুটেশনে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এত বড় একটি হাসপাতালে একা থাকাও তার কাছে অনিরাপদ বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক অনুমতি ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় হাসপাতালটির জন্য জনবল নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো পড়ে থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবন, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রীও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে হাসপাতালটি চালু করা হোক। এতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ হাতের নাগালে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।