২৪৫

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সান্ট ইসিএ।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এমেরিটাস ফেরিদুন ফেশারাকি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, যা মাসে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেলে দাঁড়াচ্ছে। এতে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজার অচল হয়ে পড়তে পারে এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়বে। শুধু রাজনৈতিক আশ্বাস দিয়ে এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেলের বাজার ইতোমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের উৎপাদিত তেলের বড় অংশ সরবরাহ করতে পারছে না।

এদিকে ম্যাকুয়ারি গ্রুপ জানিয়েছে, প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। একইভাবে সোসিয়েট জেনারেইলও বলেছে, দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়া ‘বিশ্বাসযোগ্য’।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক টামাস ভার্গা বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা লাগবে এবং তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।