১৭৬

ব্যাংক খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ওরফে এস আলমকে ঘিরে তদন্ত জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন কমিশন গঠনের পর এসব মামলায় চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তদন্তে ব্যাংক ঋণের নামে জালিয়াতি, ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থপাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা তথ্য উঠে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লক্ষাধিক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে এস আলম গ্রুপ। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ লোপাটের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক।

তদন্ত সূত্র জানায়, এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার তথ্যও পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।

এরই মধ্যে আদালতের আদেশে এস আলম, তার পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৩৬ একর জমি, ২ হাজার ৬৮০টির বেশি ব্যাংক হিসাব এবং ১৭১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দের জন্য বিভিন্ন দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। সিঙ্গাপুরে থাকা ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ, বীমা পলিসি ও কোম্পানির শেয়ারও অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় মামলাগুলোর একটি দায়ের করা হয় ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর। ওই মামলায় ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয় এস আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দুদকের ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলা।