৪৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত প্রায় ৬৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে প্রাচীন ‘আদিনাথ শিব মন্দির’ হিসেবে দাবি করে নতুন করে বিতর্কের সূচনা করেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘আদিনাথ পুরাতন শিব মন্দির’। সংগঠনটির সদস্যরা ইতোমধ্যেই মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পূজা-অর্চনা শুরু করেছেন এবং আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) মসজিদের সীমানার বাইরে একটি বড় শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সংসদে সমীক ভট্টাচার্যের দাবি ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন বিজেপি নেতা ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীক ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহের আমলে মসজিদটি নির্মাণের সময় পূর্বে বিদ্যমান হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপনার উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্যমতে, স্থানটিতে আগে শিব ও বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত আদিনাথ মন্দির ছিল।

‘আদিনাথ পুরাতন শিব মন্দির’ সংগঠনের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, মসজিদটির ভেতরে বিভিন্ন হিন্দু ও বৌদ্ধ প্রতীক রয়েছে। এই দাবির সপক্ষে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই)-এর প্রতিবেদন চেয়ে শিগগিরই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করার পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি।

এএসআই ও পুলিশের কড়া অবস্থান

সংরক্ষিত এই জাতীয় স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তা রক্ষায় শক্ত অবস্থান নিয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। এএসআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামোর ভেতরে কোনো ধরনের অননুমোদিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মেরুকরণের অভিযোগ সিপিআই-এমের

ঘটনাটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই-এম) রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম এই ঘটনাকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও আরএসএস সুযোগ পেলেই ধর্মীয় সংবেদনশীল ইস্যু সামনে এনে সমাজে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। আদিনা মসজিদকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিক চেষ্টারই অংশ।