৬৭

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রতিশোধ হিসেবে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের পুরস্কার বা ‘মাথার দাম’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই পুরস্কারের আইনি ভিত্তি দিতে ইরানের পার্লামেন্টে একটি বিশেষ বিল উত্থাপনের জোর প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত পুরস্কারের অঙ্ক প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো (যা প্রায় ৪৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিল পাসের আইনি কাঠামো তৈরি করছে ইরান

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, এই বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা শত্রুদের দমনে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কার ঘোষণার একটি শক্ত আইনি কাঠামো তৈরি হবে। কমিশনের আরেক প্রভাবশালী সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিলটি এখনও চূড়ান্তভাবে পাস না হলেও, ইরানের এমন পদক্ষেপের খবরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ শান্তির চেষ্টা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

পরিস্থিতি যখন চরম যুদ্ধাবস্থার দিকে মোড় নিচ্ছে, তখন পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার কিছু চেষ্টাও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়া বা ড্রাফট বিনিময়ের কথা সামনে এসেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশের দাবি, এই আলোচনায় অগ্রগতির হার খুবই সীমিত ও ধীরগতির।

যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান শর্ত দিচ্ছে—তাদের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক কড়া বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি দ্রুত কোনো সমঝোতায় না আসে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও বড় ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সাথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দেশের শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন।

বিশ্লেষকদের চোখ কূটনৈতিক সমাধানে

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার এই মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো মুহূর্তে বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় খসড়া বিনিময় চলমান থাকায় কূটনৈতিক সমাধানের দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন তারা।