৩৪

পিরোজপুরে জেলা যুবদলের এক নেতাসহ দুই ভাইয়ের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পিরোজপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য রাস্তা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন—পিরোজপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ সরদার এবং তাঁর চাচাতো ভাই ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল সরদার। তাঁরা বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পোস্টার লাগানো নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও হামলা

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার মধ্য রাস্তা এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগের পোস্টার লাগাতে আসেন। এ সময় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে রিয়াজ সরদার ও সাইফুল সরদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অস্ত্রের আঘাতে দুজনেই গুরুতর জখম হন।

তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া করে একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটক ব্যক্তিকে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শেখ ইমরান শুভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিএনপির নিন্দা ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি

এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন দুঃসাহসের কঠোর সমালোচনা করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় পুলিশ

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,

“ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শেখ ইমরান শুভ নামে একজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”