২৮

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

করমজল প্রজনন কেন্দ্রে যাবে কুমিরটি

সভা শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন সাংবাদিকদের জানান, মাজারে আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার। আপাতত দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে উদ্ধার করে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হবে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান,

“মাজারের দীঘি থেকে কুমিরটি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আজ বুধবার (৩ জুন) খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল বাগেরহাটে আসবে। তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কুমিরটি ধরার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করবেন।”

যে মর্মান্তিক ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে মাজারের দীঘিতে পরিবারের সাথে গোসল করতে নেমেছিল ফাতেমা আক্তার (৭) নামে এক শিশু। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোসলের একপর্যায়ে দীঘির একটি বিশালাকার কুমির হঠাৎ শিশুটির ওপর আক্রমণ করে এবং তার পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

নিখোঁজের পর প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ তল্লাশির পর, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশু ফাতেমার নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মাজার কমিটির অসচেতনতা এবং দীঘিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাজার দীঘির কুমির স্থানান্তরের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।