৫৭

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক তরুণীর (২২) শরীরে অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই তরুণীর গোপন অঙ্গ (জরায়ু ও মূত্রথলির মধ্যবর্তী অংশ) থেকে একটি আস্ত গাজর অক্ষত অবস্থায় বের করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে ওই তরুণী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার তীব্র পেট ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে ওই তরুণী ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর অভ্যন্তরীণ অঙ্গে একটি বহিরাগত শক্ত বস্তুর উপস্থিতি টের পান কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা।

জরুরি ভিত্তিতে জটিল অস্ত্রোপচার

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঢামেক হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা (গাইনি) বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার এক জটিল অস্ত্রোপচারের পর তরুণীর অভ্যন্তরীণ অঙ্গ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি লম্বা একটি আস্ত গাজর উদ্ধার করা হয়।

অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, বস্তুটি দীর্ঘ সময় ভেতরে থাকার কারণে তরুণীর অভ্যন্তরীণ নরম টিস্যুতে সংক্রমণ (Infection) তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিৎসকদের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে কোনো বড় ধরনের অঙ্গহানি ছাড়াই অস্ত্রোপচারটি সফল হয়েছে।

যেভাবে ঘটল এই ঘটনা

হাসপাতাল প্রশাসনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও কাউন্সিলিং সেশনে জানা গেছে, ওই তরুণী মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের ধারণা, মানসিক অসচেতনতা কিংবা কৌতূহলবশত কোনো এক সময়ে তিনি নিজেই অবৈজ্ঞানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে বস্তুটি নিজের শরীরে প্রবেশ করিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেটি ভেতরে আটকে গেলে লোকলজ্জার ভয়ে তিনি দীর্ঘ সময় বিষয়টি পরিবারকে জানাননি। ব্যথা ও রক্তক্ষরণ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে পরিবার তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান জানান,

“মেডিকেল সায়েন্সে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও একেবারে নজিরবিহীন নয়। অনেক সময় মানসিক অসুস্থতা বা সচেতনতার অভাবে রোগীরা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে বসেন। আমরা সফলভাবে বস্তুটি অপসারণ করেছি এবং ক্ষতের চিকিৎসা চলছে। রোগী এখন আশঙ্কামুক্ত।”

চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, শরীরে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো বহিরাগত অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তুর প্রবেশ ঘটলে তা মারাত্মক অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ, জরায়ুর ক্ষতি, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এমনকি সেপটিক শকের মাধ্যমে রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে লোকলজ্জা ভুলে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।