৩১

কল্পনা করুন, আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন আর হঠাৎ একঝাঁক মৌমাছি এসে আপনার শরীরের একটি বিশেষ অংশে বাসা বেঁধে ফেলল! শুনতে কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের জীবনে ঠিক এই ভয়ংকর ও অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটেছে। ‘ভয়ংকর ৩০ মিনিট’ শিরোনামে যুবকের এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার একটি ভিডিও বর্তমানে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো কাঁপন ধরিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্যারেজে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই একটি রানি মৌমাছি উড়ে এসে ‘ভেরেল’ নামের ওই যুবকের প্যান্টের পেছনের অংশে বসে। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি।

রানি মৌমাছির ‘ফেরোমোন’ আকর্ষণে প্যান্টে বাসা

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, রানি মৌমাছির শরীর থেকে এক ধরনের বিশেষ রাসায়নিক গন্ধ বা ‘ফেরোমোন’ নিঃসৃত হয়, যা কর্মী মৌমাছিদের আকর্ষণ করে। ভেরেলের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটেছিল। রানি মৌমাছিটি প্যান্টে বসার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চারপাশ থেকে উড়ে আসে হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, যুবকের পশ্চাৎদেশকেই মৌমাছির ঝাঁক তাদের নতুন ‘বাসা’ বা চাক হিসেবে বেছে নেয় এবং জমাট বাঁধতে শুরু করে।

একটু নড়লেই মৃত্যু! অসীম ধৈর্যের পরিচয়

এই পরিস্থিতিতে সামান্য নড়াচড়া করা মানেই ছিল নিশ্চিত মৃত্যু। হাজার হাজার মৌমাছির হুলের যৌথ আক্রমণে যেকোনো মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত। কিন্তু ভেরেল দেখিয়েছেন অসীম মানসিক দৃঢ়তা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দীর্ঘ ৩০ মিনিট একদম ‘স্ট্যাচু’ বা নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভেরেলের এই বুদ্ধিমত্তা ও স্থিরতার কারণে মৌমাছিরা তাকে শত্রু ভাবেনি এবং কোনো আক্রমণ করেনি।

যেভাবে মিলল মুক্তি

দীর্ঘ ৩০ মিনিট আতঙ্কের অবসান ঘটে অন্য এক ব্যক্তির সাহসিকতায়। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মৌমাছির ঝাঁকের ভেতর হাত দিয়ে মূল রানি মৌমাছিটিকে অক্ষত অবস্থায় ধরে একটি পাত্রে বন্দি করেন। রানি মৌমাছিটিকে সরিয়ে নেওয়ার পরপরই বাকি হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে উড়ে যায়। অলৌকিকভাবে কোনো বড় ক্ষতি ছাড়াই রক্ষা পান ভেরেল।

পুরোনো ভিডিওতে নতুন করে তোলপাড়

প্রকৃতির এই বিরল ও বিস্ময়কর ঘটনাটি মূলত গত বছরের আগস্ট মাসে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর ফেসবুক পেজে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। তবে গত সোমবার (১ জুন) ‘মিডিসারাসু’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পুনরায় শেয়ার করার পর এটি নতুন করে ভাইরাল হয়।

ভিডিওটি দেখে নেটিজেনরা তাজ্জব বনে গেছেন। কমেন্ট বক্সে একজন লিখেছেন, “এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষের ৩০ মিনিট স্থির থাকার মানসিক ক্ষমতা সত্যিই অভাবনীয়!” অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “একটু এদিক-ওদিক নড়লেই সব শেষ হয়ে যেত!” প্রকৃতি ও প্রাণীর আচরণের এই বিরলতম উদাহরণটি বিশ্বজুড়ে দারুণ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।