৬৮

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা বনাম লামিনে ইয়ামালের স্পেন—ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তির স্বপ্নের বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। সেই উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে টিকিটের বাজারে। মেগা ফাইনালকে কেন্দ্র করে টিকিটের দাম পৌঁছে গেছে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন এক উচ্চতায়।

আগামী রোববার নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ম্যাচটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আকাশচুম্বী চাহিদার কারণে সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেটে (রিসেল বাজার) দাম হু হু করে বাড়ছে।

টিকিটের দাম ছুঁয়েছে আকাশ

বর্তমানে জনপ্রিয় সেকেন্ডারি টিকিট প্ল্যাটফর্ম ‘স্টাবহাব’-এ (StubHub) এই ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের (সস্তা) টিকিটটি বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ৮৬৮ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ টাকার সমপরিমাণ। অন্যদিকে, গ্যালারির সেরা আসনের জন্য সর্বোচ্চ টিকিটের মূল্য উঠেছে ৪৩ হাজার ৪৯১ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫৩ লাখ টাকার সমান!

অবশ্য এই বিশাল খরচের সাথে বিমান ভাড়া, হোটেল বুকিং, স্থানীয় যাতায়াত কিংবা খাবারের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে স্টেডিয়ামে বসে সরাসরি ম্যাচটি উপভোগ করতে একজন দর্শকের মোট খরচ আকাশছোঁয়া হতে যাচ্ছে, যা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে কেবলই এক অবাস্তব স্বপ্ন।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ভিন্ন চিত্র

ফাইনালের টিকিটের দাম যেখানে আকাশচুম্বী, সেখানে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের লড়াইয়ের টিকিটের চিত্র একেবারেই উল্টো। সেই ম্যাচের টিকিটের চাহিদা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম নেমে এসেছে ৭৬৭ মার্কিন ডলারে। অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও একই টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডলার।

কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?

টিকিট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক দামের পেছনে মূল কারণ দু’টি: ১. রিসেল বাজারে ব্যাপক চাহিদা: সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও কালোবাজারিদের টিকিট রি-সেলিংয়ের প্রতিযোগিতা। ২. ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং নীতি: গত অক্টোবরে যখন টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখনই এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টিকিট। পরবর্তীতে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে ধাপে ধাপে টিকিটের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে।

নেপথ্যে মেসি-ইয়ামাল দ্বৈরথ

সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ফুটবল বিশ্বের বড় একটি অংশের ধারণা, স্পেনের বিপক্ষে এই ফাইনাল ম্যাচটিই হতে পারে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। আর সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের এই ঐতিহাসিক বিদায়ী মুহূর্তের সাক্ষী হতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সমর্থকেরা যেকোনো মূল্যে মাঠে হাজির হতে চাইছেন।

অন্যদিকে, স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স ও উপস্থিতি এই ফাইনালের আকর্ষণকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে সর্বকালের অন্যতম সেরার সম্ভাব্য শেষ মহোৎসব, অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজপুত্রের উত্থান—সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি চোখ এখন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে।