২৪২

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, শক্তিশালী ডলার এবং উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে। এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরদার হয়েছে। এতে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেল বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে এর চাহিদা কমে যায়—যা দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও দরপতন দেখা গেছে। রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৯৫ ডলারে, প্লাটিনাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৫৫ দশমিক ৯৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮১ ডলারে নেমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়লে আবারও দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।