৬৭

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনায় বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বগুড়া মহানগর বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি। তবে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ না দিয়ে অন্যায্যভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন।

যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহিষ্কার

দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা গেছে, বহিস্কৃত ফারুক হোসেনের ছেলে সিফাত হোসেন বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত। গত মঙ্গলবার দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করার দাবিতে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে তিনিও আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা শহরের ব্যস্ততম এলাকা ‘সাতমাথা’ অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে যায়। এ সময় সিফাতের সাথে পুলিশ কর্মকর্তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

ঘটনাস্থলে পরবর্তীতে জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার খবর আসে।

শোকজ ছাড়াই বহিষ্কার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

দল থেকে বহিষ্কারের খবর পাওয়ার পর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফারুক হোসেন। তার দাবি, তিনি কোনো নিয়মভঙ্গ করেননি এবং কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফারুক হোসেন বলেন, “আমার ছেলের বয়স ১৮ বছর, সে তার নিজের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক আদর্শ বেছে নেয়। সে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থন করে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় সেখানে ছিল। ছেলের জন্য যদি আমাকে বহিষ্কার করা হয়, তবে বগুড়া বিএনপিতে এমন অনেক নেতা আছেন যাদের পরিবারের স্বজনেরা আওয়ামী লীগ বা জামায়াতের রাজনীতি করেন। নীতি সবার ক্ষেত্রে সমান হওয়া উচিত।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আসন্ন বগুড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে যাচ্ছি। মূলত নির্বাচন থেকে আমাকে দূরে রাখতেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

দলীয় সিদ্ধান্তেই পদক্ষেপ: মহানগর বিএনপি

অন্যদিকে কোনো শোকজ দেওয়া হয়েছে কি না বা ফারুক হোসেনের এই অভিযোগগুলোর ব্যাপারে বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে তিনি জানান, উচ্চপর্যায়ের দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতেই ফারুক হোসেনকে মহানগর এবং জেলা বিএনপির সকল সাংগঠনিক কাঠামো থেকে সর্বসম্মতিক্রমে বহিষ্কার করা হয়েছে।