১১৮

কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক কলহ ও পুরনো ক্ষোভের জের ধরে এক গৃহবধূ ও তার ৬ বছর বয়সী শিশুপুত্রকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দম্পতির অপর এক সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে উখিয়া উপজেলার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহতদের পরিচয়:

  • নিহত: কপি নুর (৩০) এবং তার ছোট ছেলে মোহাম্মদ আনছার (৬)।
  • আহত: নিহত কপি নুরের বড় ছেলে মোহাম্মদ সলিম (১০)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ ও বিবরণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্থানীয় নেতা দিল মুহাম্মদ জানান, অভিযুক্ত স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। কিছুদিন আগে তিনি মাদকসংক্রান্ত একটি মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তার মনে গভীর সন্দেহ ছিল যে, এই গ্রেপ্তারের পেছনে তার স্ত্রীর তথ্য দেওয়ার হাত রয়েছে।

সেই ক্ষোভ ও পারিবারিক কলহের জের ধরেই ভোররাতে তিনি প্রথমে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় ঘুম ভেঙে সন্তানেরা বিষয়টি দেখে ফেলায় তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছোট ছেলের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যান।

উদ্ধার অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মা ও ছেলের মরদেহ এবং গুরুতর আহত অপর শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পলাতক ঘাতক স্বামীকে আটকে পুলিশ ও এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) যৌথ অভিযান শুরু করেছে।