২০৬

মিরপুরে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা ও সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার (২০ মে) বিকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই দাবি জানান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি সামাজিক অপরাধ বাড়াচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আজ দেশের সাধারণ মানুষের ও নারী-শিশুর কোনো নিরাপত্তা নেই। মিরপুরে শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড পুরো জাতির জন্য লজ্জার। আমরা দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এই পৈশাচিক হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে দেশের আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করতে হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও যৌন লালসার কারণে নারী ও শিশুদের জীবন আজ হুমকির মুখোমুখি। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ কিংবা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও সরকারের সমালোচনা

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে মানবতার নিকৃষ্টতম উদাহরণ উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “রামিসা হত্যায় পুরো জাতি ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দৃশ্যত নির্বিকার। দেশের আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবনতির দায় স্বীকার করে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যর্থতার দায়ে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেও আমাদের দেশে শুধু অন্যের ওপর দায় চাপানোর রাজনীতি চলে। জামায়াত কোনো মব বা দায় চাপানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের আহ্বান

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে নারী ও শিশু নিপীড়ন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত হয়ে পড়ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অনতিবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করার জোর আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি-র সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন— ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিলে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।