১১৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় পিচ ফলের প্রলোভন দেখিয়ে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল গনি (৬০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গত ৬ জুলাই (সোমবার) দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান।

অভিযুক্ত আব্দুল গনি ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের উত্তর তরা এলাকার মৃত গেতা মিয়ার ছেলে।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ফুসলিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন ঘিওর উপজেলার উত্তর তরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, ওই দিন তিনি উত্তর তরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তাঁর বড় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। সঙ্গে তাঁর ৪ বছরের ছোট মেয়েও ছিল। তিনি ছোট মেয়েকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসিয়ে রেখে বড় মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে শ্রেণিকক্ষে যান। কক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি ছোট মেয়েকে আর যথাস্থানে দেখতে পাননি।

চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বড় মেয়ে দেখতে পায়, অভিযুক্ত আব্দুল গনি মিয়ার কোলে বসে আছে তার ছোট বোন এবং তার হাতে একটি পিচ ফল।

হাসপাতালে ভর্তি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা

জানা গেছে, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর থেকেই শিশুটি তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে পরদিন শিশুটিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরিবারকে নিশ্চিত করেন যে, শিশুটি নির্মম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ, এলাকায় উত্তেজনা

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সমাজের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। তবে ঘটনার নির্মমতা ও স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করে এলাকার সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ফলে অপরাধীর পক্ষ নেওয়া চক্রটির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি তিনি স্থানীয়ভাবে শুনেছেন। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস

ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।