২০৮

আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই দেশের সব শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ২১ মে’র মধ্যে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশে নতুন করে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। অতীতে টিকা কার্যক্রমে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে মোকাবিলা করছে।

বর্তমানে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশালে এই কার্যক্রম চালু হবে। এরপর ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে টিকাদান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান শুরু হবে, পরে পরিস্থিতি ও মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে তা সারাদেশে সম্প্রসারিত করা হবে। সবশেষে ২১ মে’র মধ্যে পুরো কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এ কারণে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যদিও বর্তমান সংকট সরকারের অবহেলায় সৃষ্টি হয়নি, তবুও শিশুমৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হবে। হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়ায় সময়মতো টিকা প্রদানই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।