৮০

বরিশাল নগরীতে একজন হাউজিং ব্যবসায়ীকে তার নিজ কার্যালয়ে ঢুকে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও তার সহযোগী আবুল কালামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত দুইজনই নগরীর কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা।

৪ মিনিট ২০ সেকেন্ডের সেই ভাইরাল ভিডিও

জানা গেছে, বরিশাল নগরীর অগ্রনী হাউজিং কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজকে তার নিজ অফিস কক্ষে মারধরের ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ গতকাল শনিবার একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে আপলোড করা হয়। ৪ মিনিট ২০ সেকেন্ডের সেই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন ব্যক্তি আব্দুল আজিজের অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করছে। এরপর তাকে জোরপূর্বক কিছু কাগজে সই করিয়ে নেয় এবং পরে সেই কাগজগুলো হাতে নিয়ে তার সাথে ছবিও তোলে।

৭০ লাখ টাকা চাঁদা ও শ্বাসরোধের চেষ্টা

লোমহর্ষক এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তোভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় কোম্পানীর সাবেক হোল্ডার মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ বেশ কয়েকজন তার কার্যালয়ে এসে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং জোরপূর্বক ৬টি সাদা স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

আব্দুল আজিজ আরও অভিযোগ করেন, মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার বিশেষ অঙ্গ চেপে ধরলে তিনি শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে লিটু তাকে নিয়ে থানায় যায় এবং আজ (রবিবার) সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু লিটু সন্ত্রাসী নিয়ে আবারো তার ওপর হামলা বা তাকে হত্যা করতে পারে—এই ভয়ে তিনি আর সালিশীতে যাওয়ার সাহস পাননি।

আদালতে মামলা ও পুলিশি অ্যাকশন

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্টদের আসামী করে বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানিয়েছেন, ভিডিওটি ভাইরালের পর পুরো বিষয়টি পুলিশ কমিশনারের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালী মডেল থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর আজ রবিবার দুপুরে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত লিটু ও কালামকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।

লিটু যুবদলের কেউ নয়: মহানগর যুবদল

এদিকে, ঘটনার মূল হোতা মোস্তাফিজুর রহমান লিটু রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলেও বরিশাল মহানগর যুবদল তার দায় নিতে অস্বীকার করেছে। এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি মামুন রেজা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে আদৌ সম্পর্কিত নয় এবং তার এই অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।