১১৮

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া ছাড়া ইরানি জনগণ এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের হৃদয় কোনো সান্ত্বনা খুঁজে পাবে না।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এই হুঁশিয়ারি দেয়। খবর প্রেস টিভির।

৪ মাসের রাষ্ট্রীয় শোক ও তীব্র ক্ষোভ

বিবৃতিতে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর গত চার মাস ধরে গভীর শোক পালন করছে ইরানের জনগণ। এই সময়কালকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘রক্তপিপাসু মার্কিন শত্রুরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপরাধ ও সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র সংঘটিত করেছে।’

গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করে:

“ইরানি জনগণ এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের আহত হৃদয় এই অপরাধের প্রধান দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়া ছাড়া কোনো স্বস্তি পাবে না। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই কঠোর প্রতিশোধ ও শাস্তি নিশ্চিতভাবেই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।”

নতুন নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য

বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং ইরানের জনগণের প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার পূর্ণ আনুগত্য ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সাথে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সর্বশেষ দুই দফা হামলায় নিহত হওয়া সকল ইরানি নাগরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রক্তের ফোঁটার প্রতিশোধ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, খামেনি ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইরানের জনগণকে তাঁদের বিদায়ী অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিশোধের সময় খুব বেশি দূরে নয়: আইআরজিসি

এদিকে, এই বিবৃতির পরপরই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান এক হুঁশিয়ারি বার্তায় বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী’ যুক্তরাষ্ট্র এবং ‘অবৈধ’ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত বা প্রতিশোধ নেওয়ার সময় খুব বেশি দূরে নয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে এবং তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রদর্শিত আদর্শ ও বিপ্লবের পথ অনুসরণ করে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ ও অতর্কিত সামরিক হামলায় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরান ও তার মিত্র দেশগুলো সার্বক্ষণিক যুদ্ধের প্রস্তুতি জারি রেখেছে।