১১০

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা কাজে আসছে না। গত তিন দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা, যার ফলে নদীপাড়ের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

৩ দিনে ১৫০ মিটার বিলীন, জিও ব্যাগসহ নদীগর্ভে

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার স্থানে নতুন করে ধস নেমেছে। প্রবল স্রোতের তোড়ে সংরক্ষিত এলাকার প্রায় ৫৫ মিটার অংশ জিও ব্যাগ ও টিউবসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে গত তিন দিনে ওই এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদী গ্রাস করেছে।

ভাঙন ঠেকাতে সেখানে তিন দিন ধরে অনবরত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলা হচ্ছে। তবে নদীপাড়ের মানুষের দাবি, এভাবে সাময়িক জোড়াতালি না দিয়ে ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করা হোক।

নেপথ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন ও আকস্মিক পানি বৃদ্ধি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে শহরাবাড়ি গ্রামে যমুনা নদীর আকস্মিক ভাঙনে ফসলি জমিসহ ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। সে সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছিল।

সম্প্রতি যমুনা নদীতে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শুক্রবার থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত সরাসরি পাড়ে আঘাত হানছে। ফলে ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা।

এমপির নির্দেশনা ও পাউবোর তৎপরতা

নদী ভাঙনের খবর পাওয়ার পর পরই স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ভাঙন রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। নদীর মাঝখান থেকে বিশেষ নৌকায় বালু এনে পাড়েই বস্তা ও বড় টিউবগুলো ভরাট করে ডাম্পিং করা হচ্ছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান,

“ভাঙন শুরুর পর পরই আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। বালুভর্তি এই বিশেষ টিউব ও জিও ব্যাগগুলো নদীর ভাঙন রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি, আশা করছি বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবে না।”

তবে প্রশাসনের আশ্বাসের পরও যমুনার প্রমত্তা রূপ দেখে নদীপাড়ের বাসিন্দা ও কৃষকদের চোখে-মুখে এখন শুধু ভিটা-মাটি হারানোর আতঙ্ক।