১১১

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন প্রবিধানমালা জারি করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। ‘নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা, ২০২৬’ শীর্ষক এই নতুন বিধান অনুযায়ী, ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ খাবার বিক্রেতা থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় সুপারশপ—সব ধরনের খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দুই ভাগে খাদ্য ব্যবসা, ফি ও নিয়মাবলী

নতুন প্রবিধানমালায় খাদ্য ব্যবসাকে দুটি মূল শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:

  • নিবন্ধন: সাধারণ রেস্তোরাঁ, বেকারি, জুস বার, ক্যাটারিং, মিষ্টির দোকান এবং ফুটপাতের খাবার বিক্রেতাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১,০০০ টাকা।
  • লাইসেন্স: শিশুখাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, জৈবপণ্য, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেলের আমদানি ও পাইকারি ব্যবসার জন্য কঠোর শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যবসার আয়তনের ভিত্তিতে লাইসেন্স ফি ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

প্রবিধান অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। এছাড়া প্রতিটি খাদ্যপণ্যের মোড়ক, ক্যাশ মেমো (বিল) কিংবা প্যাডে লাইসেন্স নম্বর বা কিউআর কোড (QR Code) প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। এই বিধান অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করলে কারাদণ্ড ও মোটা অঙ্কের জরিমানা গুণতে হবে।

ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকার সংস্থার উদ্বেগ

নতুন এই প্রবিধানকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানামুখী উদ্বেগ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানান, বর্তমানে একটি খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে প্রায় ১৭ ধরনের অনুমোদন নিতে হয়। এর সঙ্গে নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স যুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা এবং পরিচালনা ব্যয় দুই-ই বাড়বে। পাশাপাশি বিএফএসএর মাঠপর্যায়ে এটি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ফুটপাত থেকে শুরু করে বিশাল বিস্তৃত এই খাদ্য খাত কার্যকরভাবে তদারকি করার মতো পর্যাপ্ত জনবল বিএফএসএর নেই। এছাড়া লাইসেন্স ও নিবন্ধনের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ ভোক্তার ওপরই চাপাবে।

বিএফএসএর ব্যাখা ও আশ্বস্তকরণ

ব্যব্সায়ী ও বিশেষজ্ঞদের এমন উদ্বেগের বিষয়ে বিএফএসএর সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, শুরুতেই ছোট বা ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের ওপর কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। প্রাথমিকভাবে বড় শিল্পভিত্তিক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর আওতায় এনে নজরদারি বাড়ানো হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএসটিআই (BSTI) থেকে ইতোমধ্যে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় পড়বে না, তবে খাদ্যের মান নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।