৯৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তালা ও জানালা ভেঙে চুরি হওয়া সরকারি মালামাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। আজ রোববার (০১ জুন) দুপুরে দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী খানের ভাঙারির দোকানে অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান। এ সময় চুরির মালামাল রাখার দায়ে দোকান থেকে আইয়ুব আলী খানের শ্যালক হালিমকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত আইয়ুব আলী খান দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তাঁর এই ভাঙারির দোকানটি মূলত তাঁর ছোট ছেলে অনিক খান দেখাশোনা করেন।

ছুটির সুযোগে সরকারি অফিসে তাণ্ডব

ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ঈদের ছুটির শেষ দিনে তাঁরা অফিস তালাবদ্ধ করে বাড়ি চলে যান। আজ সকালে অফিসের ডিজিটাল ভূমি সেবা কর্মকর্তা মো. রাজিব প্রামাণিক মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করেন অফিসের বাইরে বিদ্যুতের তার ঝুলছে।

সন্দেহ হওয়ায় তিনি ভেতরে গিয়ে দেখেন, অফিসের জানালা ও দরজার তালা ভাঙা। রাজিব প্রামাণিক বলেন,

“ভেতরে ঢুকে দেখি কম্পিউটার, ফ্যান, সার্ভিস তার, পানির মোটর—কিছুই নেই। এমনকি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও তছনছ করে ফেলা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।”

ভাঙারির দোকানে অভিযান ও মালামাল উদ্ধার

খবর পেয়ে পুলিশসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে ক্যানাল ঘাট এলাকায় বিএনপি নেতা আইয়ুব আলীর ভাঙারির দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ভূমি অফিস থেকে চুরি যাওয়া ১১টি মালামালের মধ্যে ৯টি মালামাল উদ্ধার করা হয়। তবে চুরি হওয়া কম্পিউটার মনিটর ও সিসিটিভির ডিভিআর (DVR) মেশিন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অভিযানকালে উপস্থিত আইয়ুব আলী খানের ছোট ভাই ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইয়াহিয়াহ খান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন,

“ভাঙারির দোকানে অনেকেই মালামাল বিক্রি করতে আসে, কোনটা চুরির মাল তা বোঝার উপায় থাকে না। তবে আমরা মূল চোরকে খুঁজে বের করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেবো।”

প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি

দোকানের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এবং চুরির মালামাল পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান বলেন,

“ভূমি অফিসে যেভাবে ভাঙচুর করে মালামাল লুট করা হয়েছে, একে চুরি না বলে ডাকাতি বলাই শ্রেয়। অনিক খানের দোকান থেকে বেশির ভাগ মালামাল উদ্ধার করা হলেও এখনো কিছু জিনিস বাকি আছে। বাকি মালামাল ফেরত দিতে অনিকের চাচা ইয়াহিয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, আটক হালিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনায় জড়িত মূল চক্র ও পলাতকদের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।