১৮২

রাজধানীর দনিয়ার ‘ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহারের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের মানসিক চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণে ওই শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে—এমন অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন এবং অধ্যক্ষকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এর আগে গত বুধবার (২০ মে) স্কুল ছুটির পর বাসায় ফিরে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে বলে জানা গেছে। আজ সকালে এই খবর সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তীব্র ক্ষোভ ও গণঅসন্তোষ দেখা দেয়।

পরীক্ষার খাতায় আঁকাআঁকি ও বকাঝকার অভিযোগ

বিক্ষোভকারী সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের দাবি, সম্প্রতি স্কুলে চলমান মডেল টেস্ট পরীক্ষার সময় অর্থনীতি বিষয়ে সাবিকুন নাহারের প্রস্তুতি ভালো ছিল না। পরীক্ষার হলে সে চুপচাপ বসে থাকার একপর্যায়ে নিজের খাতার পেছনে কিছু একটা আঁকাআঁকি করে। বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষকের নজরে এলে তিনি খাতাটি কেড়ে নেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবিকুন নাহারকে স্কুল কর্তৃপক্ষের রুমে ডেকে নিয়ে চরম মানসিক নির্যাতন ও বকাঝকা করা হয়। শুধু তাই নয়, পরে তার অভিভাবককে স্কুলে ডেকে এনে তাঁদের সামনেই ওই শিক্ষার্থীকে ভীষণভাবে অপমান করা হয় এবং অভিভাবকের সঙ্গেও অত্যন্ত রূঢ় ও অমানবিক আচরণ করা হয়। স্কুল থেকে ফিরে এই চরম অপমান ও মানসিক ট্রমা সহ্য করতে না পেরে বিষণ্ণতায় ভুগে বুধবার বিকেলে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

শৃঙ্খলার নামে কঠোর আচরণের অভিযোগ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন এবং শিক্ষকেরা প্রায়শই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। শৃঙ্খলার নামে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সাথে কঠোর, অসংবেদনশীল ও অপমানজনক আচরণ করা হয়, যা অনেকের জন্যই মানসিকভাবে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সাবিকুন নাহারের অকাল মৃত্যুর জন্য তারা সরাসরি স্কুল প্রশাসনের এই ‘মানসিক টর্চার’ ও অসভ্য আচরণকেই দায়ী করছেন।

দুপুর পর্যন্ত স্কুল ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রতিষ্ঠানে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও তদন্তের আশ্বাস

খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। দুপুরের দিকে পুলিশ ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের একটি দল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেয়।

কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সকাল থেকেই দনিয়ার ব্রাইট স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীর আত্মহত্যার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার ও মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমরা নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছি। এই আত্মহত্যার প্ররোচনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কার কার অবহেলা বা চাপ ছিল, তা তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”