১৮৩

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের সুরক্ষায় সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে চাইবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেনাসদস্যরা মাঠে থেকে কাজ করে যাবেন। তবে দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে কিছু সময়ের মধ্যেই সকল সেনাসদস্য ব্যারাকে ফেরত আসতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ‘জাতীয় ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৬-১৭ হাজার সেনাসদস্য মাঠে মোতায়েন

চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর অবস্থান তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, “আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এখনো মাঠে নিয়োজিত (ডেপ্লয়েড) আছি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে এ কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে সারা বাংলাদেশের ৬২টি জেলায় আমাদের প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার সৈনিক দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ইতিমধ্যে অনেক সৈনিককে মাঠপর্যায়ে থেকে উইথড্রো (প্রত্যাহার) করেছি, তবে সম্পূর্ণ উইথড্রো এখনো হয়নি। ইনশাআল্লাহ, আমরা আশা করছি যে কিছু সময়ের মধ্যে আমরা সবাই আবার ব্যারাকে ফেরত আসতে পারবো।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যারাকে ফিরে গেলেও দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে কিছু কাজ করে যেতেই হবে। সরকার যতদিন চাইবে, সেনাবাহিনী মাঠে থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যেমন এখন বিভিন্ন ফুয়েল ডিপোগুলোতে আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট আছে। এ রকম টাইম টু টাইম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমাদের হয়তো সরকারকে নিয়মিত সহায়তা করতে হবে।”

ফিল্ডে থাকার পরও কমেনি ফায়ারিং সক্ষমতা

সেনাবাহিনীকে মূল দায়িত্বে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “আমাদের যে প্রধান কাজ—ক্যান্টনমেন্টে ফেরত এসে নিয়মিত প্রশিক্ষণ করা এবং যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখা, সেই নিজস্ব পদ্ধতিগুলো আমরা আস্তে আস্তে পুরোদমে শুরু করতে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন মাঠে থাকার কারণে আমরা এতদিন ফায়ারিং সেভাবে করতে পারিনি।”

অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের ফায়ারিংয়ের দক্ষতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজকে প্রতিযোগিতার রেজাল্ট এবং সবার দক্ষতা দেখে আমি অত্যন্ত আশান্বিত যে, এতদিন মাঠপর্যায়ে দেশের দায়িত্বে থাকার পরেও আমাদের সৈনিকদের ফায়ারিং সক্ষমতা বিন্দুমাত্র কমেনি। এটি অত্যন্ত ভালো লক্ষণ। আমাদের এখন সেনাবাহিনীর যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ ডিসিপ্লিন ঠিক রাখার মূল কাজগুলো পুরোদমে শুরু করতে হবে।”

১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন, প্যারা কমান্ডো রানারআপ

বক্তব্য শেষে সেনাপ্রধান প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

সেনাসদরের লজিস্টিকস এরিয়ার তত্ত্বাবধানে এবং সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ১৬ মে এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। এবারের প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফর্ম করে ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সৈনিকেরা উপস্থিত ছিলেন।