৯৭

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে ভারতীয় গরু চোরাচালানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় দেশীয় খামারিরা। তাদের অভিযোগ, কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান চক্রগুলো হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়ে অবৈধ পথে গরু প্রবেশের চেষ্টা। চোরাকারবারিরা দুর্গম সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে ভারতীয় গরু এনে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে সরবরাহ করে থাকে।

গোখাদ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে এমনিতেই চাপে খামারিরা

দেশীয় খামারিদের মতে, গোখাদ্যের চড়া দাম, পশুর ওষুধ ও পরিচর্যা ব্যয় ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই তারা চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে যদি অবৈধ উপায়ে বিদেশী গরু দেশের বাজারে প্রবেশ করে, তবে দেশী গরুর দাম অস্বাভাবিক কমে যাবে। ফলে সারা বছর কষ্ট করে লালন-পালন করা পশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন না তারা।

হালুয়াঘাট উপজেলার খামারি কামরুল হাসান নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,

“গরু পালন করতে এখন অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। এই অবস্থায় ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাজারে ঢুকলে দেশী গরুর দাম অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।”

আরেক খামারি মশিউর রহমান বিশাল বলেন,

“প্রতি বছর ঈদের আগে চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কম দামে ভারতীয় গরু এনে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করা হয়, যার ফলে দেশীয় খামারিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এবারো একই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে, নইলে আমাদের লোকসান এড়ানো সম্ভব হবে না।”

চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে জেলায়

জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ময়মনসিংহ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার। তবে এর বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার পশু—যা জেলাভিত্তিক চাহিদার তুলনায় অনেকটাই বেশি। ফলে চোরাপথে বাইরে থেকে কোনো পশু না আসলেও স্থানীয় খামারিরাই এই চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে সক্ষম।

কঠোর অবস্থানে বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন

ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত ও স্থানীয় বাজারগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গরু চোরাচালান রোধে সবকটি থানাকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চোরাকারবারিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।