৫৫

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সাথে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আজ শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই তথ্য জানান। ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক এই সভার যৌথ আয়োজন করে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা দফতর ও ব্র্যাক।

বিচার নিশ্চিতে ডিএনএ রিপোর্টের গুরুত্ব

মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া তাড়াহুড়ো করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে আইনি ফাঁকফোকরের কারণে সামগ্রিক বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। আমরা চাই মামলার তদন্ত যেন শতভাগ নিখুঁত হয়। তাই ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে। ল্যাব থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট আসার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের ছুটির আগেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডেথ রেফারেন্সের দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগ

উচ্চ আদালতে এ ধরনের স্পর্শকাতর ও গুরুতর মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সাধারণত বিচারিক (নিম্ন) আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইন অনুযায়ী মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। তবে এই মধ্যবর্তী সময়ে পেপার বুক (মামলার নথিপত্র ও বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করতে গিয়ে একটি দীর্ঘ সময় লেগে যায়। যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পেতে বিলম্ব ঘটে।”

এই জটিলতা নিরসনে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “ডেথ রেফারেন্সের এই পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও আধুনিক, দ্রুত ও সহজ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। পেপার বুক তৈরির প্রক্রিয়া গতিশীল করার মাধ্যমে উচ্চ আদালতেও যেন দ্রুততম সময়ে রায় কার্যকর করা যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ব্র্যাকের প্রতিনিধি এবং দেশের আইন ও বিচার অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।