১৩৫

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু এলাকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত আতিকার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লা (৪০) প্রায় ১৬ বছর আগে শারমিন বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান ছিল। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল বলে জানা গেছে।

প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউজকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, গত ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক রাসেল মোল্লাকে গাড়ি কেনার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন। পরে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সবাই অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো চাপাতি দিয়ে স্ত্রী শারমিন বেগম, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালক রাসেল মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা শাহাবুদ্দিন মোল্লা কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর জেলা পুলিশ ও কাপাসিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে।

পুলিশ জানায়, মোবাইল ট্র্যাকিং, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান ঢাকায় পালিয়ে যান এবং পরে পদ্মা সেতু এলাকায় অবস্থান নেন।

গত ১১ মে সকালে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কিছুক্ষণ সেতুর ওপর অবস্থান করার পর নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশ ধারণা করছে, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনার পরপরই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।”

মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।